কনটেন্ট রাইটিং এর ভবিষ্যৎ কি? কীভাবে কনটেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং করে অনলাইনে আয় করা যায় ?

আসসালামু আলাইকুম , পাঠক। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমরা কথা বলব আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে। চলুন কথা না বাড়িয়ে মূল বিষয় যাওয়া যাক।

আর্টিকেল রাইটিং কী বা কনটেন্ট রাইটিং কী?

 যদি সহজ কথায় বলি,  আপনি যে পোস্ট এখন করছেন সেটাই কিন্তু একটা আর্টিকেল বা কনটেন্ট। এ কনটেন্ট বায় আর্টিকেল বা  লেখাটা হচ্ছে গিয়ে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং।  আর যারা আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে কাজ করে তাদেরকে কনটেন্ট রাইটার বা আর্টিকেল রাইটার বলা হয়। 

যদি একটু বইয়ের ভাষায় বলেই,  তাহলে  যে কোন একটি বিষয়ে মানুষকে জানানোর জন্য  রিসার্চ করে  তথ্যবহুল কিছু উপাত্ত মানুষের মাঝে সহজভাবে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া টা হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং। এবং কোনটি অবশ্যই অর্থবোধক হতে হবে  এবং তার মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।  “ আপনি আমি তুমি স “ ইত্যাদি ইত্যাদি লিখলেন তবে সেটা কিন্তু কনটেন্ট  বলা যাবে না। কন্টেন হতে হবে অর্থবোধক, সহজ, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে। 

কনটেন্ট রাইটার কারা ?

মূলত যারা কনটেন্ট লিখে তাদেরকেই বলা হয় কনটেন্ট রাইটার।  দিন দিন কনটেন্ট রাইটার এর চাহিদা বাড়ছে ।  সকলেই মানুষকে জানাতে পছন্দ করে নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বা নিজের বিজনেস সম্পর্কে।  সেটা একমাত্র  হচ্ছে কনটেন্ট। সেটা কনটেন্ট রাইটিং হতে পারে,  ভিডিওগ্রাফি হতে পারে,  বা গ্রাফিক্স বেস হতে পারে।  যেভাবে করুক না কেন তার ব্যবসাকে প্রচার করার জন্য অবশ্যই তার কনটেন্ট  লাগবে।  একজন কনটেন্ট রাইটার  কিন্তু একজন কনটেন্ট মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত ।  আপনি যদি সঠিকভাবে কনটেন্ট রায় তিনটা শিখতে পারেন তাহলে আপনি কন্টেন মার্কেটিং করে  10 লক্ষ থেকে 15 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।  অবিশ্বাস্য হলেও সত্যিই টা এটাই। 

 তবে অনেকেই আছে কনটেন্ট রাইটার ও  কপিরাইটার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে।এ নিয়ে আমরা বিস্তারিত বলবো  নিচের পাঠেই।

 কনটেন্ট মার্কেটিং ও কপিরাইটার এর মধ্যে পার্থক্য কী?

কনটেন্ট মার্কেটার বা  রাইটার এবং কপি রাইটার দুইটা কিন্তু দুই রকম। কন্টেন মার্কেটার মূলত যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইটের বা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পাতা দিয়ে যে প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচার করার প্রয়োজন পড়ে সেখানে add’ অপটিমাইজ মারকেটিং ক্যাম্পেইন,  ই বুক পাবলিশ করা ইত্যাদি কাজ করে থাকে। আর কপিরাইট কন্টেন মার্কেটের টিমের একজন সদস্য ।  কপি রাইটার  এর মূল কাজ হচ্ছে মূলত লেখা আরো সুন্দর করে ফুটে উঠানো।  যেমন ধরুন আমি একজন কনটেন্ট রাইটার।  আমার লিখার ভিতর বউ থাকতেও পারে অথবা লেখাটায় কেচিং নাও হতে পারে।  লেখাটাকে আরো সুন্দর করে ফুটিয়ে উঠানোর জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন সে কাজটা কিন্তু একজন কপিরাইট করবে। 

কনটেন্ট মার্কেটার  এবং কনটেন্ট রাইটার  উভয়  কি একই?

যদি সহজ কথায় বলি, না। তবে অনেকাংশেই মিল রয়েছে। আপনি যখন সঠিকভাবে কনটেন্ট রাইটিং টা শিখতে পারবেন সঠিক কোনটা প্রকাশ করতে পারবেন তখন আপনি নিজেকে একজন কনটেন্ট মার্কেটের হিসেবে দাবি করতে পারবেন।  কারণ শুধুমাত্র কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে থাকলে হয় না।  একজন কনটেন্ট রাইটারকে  এসইও ,  কিওয়ার্ড  সম্পর্কে  ভালো না থাকলে তারপরে শুরু করতে পারে।  কিন্তু একজন কন্টেন মার্কেটের বা কনটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার কে  কনটেন্ট রাইটিং, এসইও, ভিডিও এডিটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ব্লগিং, মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারনা  এবং দক্ষতা অর্জন করতে হয়।  যখন আপনি আর্টিকেল রাইটিং এর পাশাপাশি উপরোক্ত বিষয়গুলো আয়ত্ব করতে পারবেন তখনই আপনি নিজেকে একজন কনটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে প্রকাশ করতে পারবেন। আগেও বলছি একজন কনটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার এর বাৎসরিক ইনকাম হতে পারে 10 লক্ষ থেকে 15 লক্ষ টাকার মত যদি আপনি সঠিকভাবে কাজ করতে জানেন।  আজকে আমরা মার্কেটিং ম্যানেজার দিকে যাব না আমরা আগে কনটেন্ট রাইটিং টা বুঝে নেই । আস্তে আস্তে যখন   কনটেন্ট রাইটিং আয়ত্ত করতে পারব তখন আমরা নিজেকে অনায়াসে কনটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারব।

কিভাবে আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটার হতে পারব ?

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আর্টিকেল বা কনটেন্ট   রাইটারের   ক্যারিয়ার বা চাহিদা ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে জানলাম ।  এখন জানবো মূল বিষয়টা সেটা হচ্ছে গিয়ে কিভাবে আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটার হবে। আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটার মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ।  আর্টিকেল রাইটিং আপনি বিভিন্ন ভাষাতেই করতে পারেন।  আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের মাতৃভাষা হচ্ছে গিয়ে বাংলা আপনি চাইলে বাংলাতেও করতে পারেন তবে এতে ইনকাম কতটা বেশি না।  আপনি চাইলে ইংরেজিতে করতে পারেন।  আপনি যে ভাষাতে আর্টিকেল রাইটিং টা করেন না কেন  আপনাকে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে শব্দ জানতে হবে এবং শব্দের সংমিশ্রণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে ।  এবং বাংলা গ্রামার ইংরেজি গ্রামার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।  বিশেষ করে বাংলাটা সমস্যা হবে না কিন্তু ইংরেজিতে আপনাকে কন্ট্রোল করতে হলে ইংরেজি গ্রামারের যথেষ্ট থাকতে হবে।  এবং আপনি যদি ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন তাহলে আপনার জন্য ইংরেজিতে নিয়ে কাজ করাটা সবচেয়ে সহজ হবে ।



এখন বলতে পারেন কিভাবে কাটা শিখব?  কোনটি সবচেয়ে বড় গুণ হতে হবে করতে পারাটা।  আপনাকে প্রচুর পরিমাণ পড়তে  জানতে হবে। আপনার যদি পড়ার অভ্যাস না থাকে তাহলে সোজা কথায় বলে দিচ্ছি আপনার জন্য কন্টেন্ট রাইটিং ক্যারিয়ার না।  একজন কনটেন্ট রাইটারকে প্রচুর পরিমাণে পড়তে হয় রিসার্চ করতে হয় তারপর একটি কন্টেন লেখার জন্য কাজে লেগে পড়তে হয়। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে পড়ার ইচ্ছা না থাকে তাহলে আপনার জন্য কন্টেন্ট রাইটিং ক্যারিয়ার না ।

যা যা শিখতে হবে – 

১. এসইও

 আপনি যদি একজন কনটেন্ট রাইটার হতে চান ।  এবং  সঠিকভাবে কনটেন্ট রাইটিং শিখতে চান  তাহলে আপনার জন্য মাস্ট বি এস ই ও জানতে হবে।  কারণ আপনি চিন্তা করুন একজন মানুষ কেন আপনার কাছ থেকে কনটেন্ট নিবে ?  সোজা কথা সেটা হচ্ছে গিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য।  আর মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন  লাগবে।  যে কোন কিছু সম্পর্কে জানার জন্য প্রথমে সার্চ করে।  আর সার্চ রেজাল্ট আপনি যত থাকবেন ততই আপনার আর্টিকেলটি পৌঁছাতে পারবেন।  তাই একজন কন্ট্রাক্টার হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। 

২.  কিওয়ার্ড

 আরেকটি মোস্ট ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে গিয়ে কিওয়ার্ড। কিওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত।  আপনার সম্পর্কে ধারনা থাকে তাহলে আপনি কোন বিষয়ে লিখতে পারবেন না। 

মোটামুটি এই দুইটা বিষয় সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতেই আপনি কন্টেন্ট রাইটিং নেমে যেতে পারেন। এজন্য আপনি ইউটিউব এর সহায়তা নিতে পারেন।  ইউটিউব অনেক ভালো ভালো কমিটি রয়েছে এই রিলেটেড।

কিভাবে আয় করব ?

 এতক্ষণ পর্যন্ত ক্যারিয়ার বা চাহিদা , কিভাবে শিখবেন সে সম্পর্কে আলোচনা করলাম। আলোচনা করবেন। আপনি কি করতে পারেন। নিচে দেওয়া হল  যার মাধ্যমে আপনি পারতেন কাজগুলো মোটামুটি একটি ভালো ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

  • ব্লগার  হিসেবে আয় করা :  আপনি যখন কন্টেন্ট রাইটিং পারবেন তখন আপনি চাইলে নিজেই একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।  এবং এডসেন্স বা বিভিন্ন অ্যাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে  আয় করতে পারেন।
  •  কনটেন্ট লিখে আয় করা : আপনি নিজের পার্সোনাল ব্লগার পাশাপাশি অন্যের কন্টেন লিখে আয় করতে পারেন।  আপনার  স্কিন এবং দক্ষতা যত বেশি হবে আপনার কনটেন্ট এর মূল্য তত বেশি হবে। হ্যাঁ আপনি যদি ভাল  এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট মানুষকে দিতে পারেন তাহলে আপনি ভালো একটি ইনকাম করতে পারবেন ।
  •  পুনর্লিখন :  অনেকে অনেক সময় আর্টিকেল অনেক ভুল করে থাকে বা আর্টিকেল eye-catching করতে পারেনা।  আপনি সেই আর্টিকেল eye-catching এর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেন।  যেটা আমি আগেই বলেছি অনেকটা কপিরাইট এর মতই।
  • অনুবাদক হিসেবে :  আপনি যদি ইংরেজিতে পারাদশি হন তাহলে এ কাজটি হবে আপনার জন্য।  আপনি নিজে অনুবাদক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।  আর এই সেক্টর টাতে আমরা অনেক পিছিয়ে।  অনেক ভালো মানের ইংরেজি কনটের রয়েছে যেগুলো বাংলায় অনুবাদ করার নেই আপনি চাইলে ওই কাজটাই নেমে যেতে পারেন যদি আপনি ইংরেজিতে দক্ষ হন। 
  •  ই-বুক  লিখে :  আপনি চাইলে ইনকাম করতে পারেন।  আপনার যদি  ক্রিয়েটিভিটি  ভালো হয় তাহলে আপনি এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন। 


  • রেফার মার্কেটিং বা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে :  আপনি যদি ভালো হন বিশেষ করে যদি আপনি ইংরেজিতে বেশি পারদর্শী হন তাহলে আপনার জন্য একটি অনেক মূল্যবান হবে।  অ্যামাজন আলিবাবা ইত্যাদির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান কিন্তু এই রেফার মার্কেটিং মার্কেটিং এর জন্য কি আছে।  আপনি যদি ইংরেজিতে ভালো লিখতে পারেন এবং বিভিন্ন প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে এবং এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে এটা আপনার জন্য বেস্ট হবে।  আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা মাসে লাখের উপর ইনকাম করছে শুধুমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিং করে।  তাহলে বুঝতে পারছেন কতটা  বড়। সকল প্রতিষ্ঠানে চাইবে তার  পণ্য বিক্রি হোক  সে হিসেবে কিন্তু এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য বেস্ট একটা অপশন । 

এ তো গেল হচ্ছে কিভাবে আপনি নিজে নিজে ইনকাম করতে পারেন নিজের চেষ্টায় বা লোকাল  ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ করতে পারেন।   আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করবেন।

গ্লোবাল মার্কেটে কাজ :

 আপনি নিজেকে যদি একজন  কনটেন্ট  রাইটার হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আমি বলব আপনি মূল্যবান মার্কেটে আসুন।  আর যদি আপনি কাজ শিখতে চান তাহলে আপনার মার্কেটে আসা প্রয়োজনীয়তা নেই আপনি লোকাল মার্কেটে কাজ করে ধীরে ধীরে আপনার স্কিল ডেভেলপ করুন।  যখন আপনি  নিজেকে একজন দক্ষ মনে করবেন তখনই আপনি লোবান মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আসুন ।  এতে করে আপনি হয়ে পড়বেন না আর নিয়মিত কাজ পাবেন।  আর যদি হিসেবে আসুন তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।  তাই বলবে কাজ শিখুন কাজ করুন নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে তারপর মার্কেট। 

 বিভিন্ন ধরনের মার্কেটপ্লেস রয়েছে।  সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফাইবার,  আপওয়ার্ক,  ফ্রিল্যান্সার,  স্পেশালি শুধুমাত্র রাইটার দের জন্য  হায়ার রাইটার, কলেজ হিউমার, ওয়াও উইমেন, ওয়ার্ক অনলাইন ব্লগ , লিস্ট ভার্সন ইত্যাদি। 

আজ এ পর্যন্তই।  অন্য আরেকদিন এর মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত  জানাবো। আপনাদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের করতে পারেন আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment