হাতের লেখা সুন্দর ও দ্রুত করার কার্যকরি উপায়

আসসালামু আলাইকুম,  পাঠক। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আজকে আপনাদের সাথে কথা বলবো কিভাবে হাতের লেখা সুন্দর করা যায় তা নিয়ে। চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

কিভাবে হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করা যায় ?

হ্যাঁ,  আজকে আমরা কথা বলবো কিভাবে হাতের লেখা দ্রুত সুন্দর করা যায় তা নিয়ে।  হাতের লেখা হলো মূলত একটি শিল্প।   হাতের লেখার মাধ্যমে আমরা আমাদের শিল্পসত্তা প্রকাশ করতে পারি।  আমাদের   অনুপুস্থিতিতে এটাই কিন্তু আমাদের পরিচয় বহন করে। আমাদের সমাজে একটি  প্রথা  চালু আছে সেটাই হচ্ছে হাতের লেখা দেখে  শিক্ষার্থীরা মেধাবী কি মেধাবী না সেটা জাজমেন্ট করা। এ জিনিসটা একঠিক আবারও ঠিক না। কারণ আগেই বলেছি হাতে লেখা কিন্তু একক শিল্পই।  আজকে আমরা হাতের লেখার পাঠটিকে মোট তিনটি অংশে ভাগ করেছি।সেই বিষয়গুলো নিয়েই আজকে আমরা আলোচনা করব। আশা করছে তিনটে বুঝতে পারলে এবং নিয়মিত অনুশীলন করলে আপনি হাতের লেখা দ্রুত ও আরও ভালো করতে পারবেন।

১. সাইকোলজিকাল  অংশ

২.  বাহুর অবস্থা

৩. সুন্দরের উপায়

৪.  কাগজ ,কলমের ব্যবহার

 

সাইকোলজিকাল  অংশ

অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন লেখাতে আবার কিসের জন্য সাইকোলজিকাল ব্যাপার-স্যাপার আসবে ?  লেখা সুন্দর করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সাইকোলজিকাল ব্যাপার গুলো ব্যবহার করতে হবে। সাইকোলজিকাল ব্যাপার গুলো মনে হতে পারে এগুলো এতটা গুরুত্বপূর্ণ না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যখন আমরা কাজের নামে তখন বলতে পারেন গুরুত্বটা কতটুকু। এই অংশে আমরা সাইকলজিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবো।

  • প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া

হ্যাঁ, আপনাকে  লিখার ক্ষেত্রেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। আপনি যখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন কোন কাজ করতে তখন সে কাজটি আপনাকে করতে আরও উৎসাহিত করবে সাইকলজিক্যাল ভাবে। এবং সবসময় চাইবেন যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য ঠিক করে রাখতে। যদি লক্ষ্য ঠিক রাখেন এবং পরিশ্রমী হোন তাহলে আপনি সহজেই সে কাজটি শেষ করতে পারবেন। তাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন এবং তারপর যেকোন কাছে শুধুমাত্র লেখা আছে তা কিন্তু না পড়াশোনা শুরু করেন যে কোনো কাজেই ক্ষেত্রেই আপনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে পরিকল্পনা করে সঠিক  গোল নির্ধারণ করে তারপর কাজ শুরু করবেন । 

  • সঠিকভাবে বসা 

  লেখার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সঠিকভাবে  বসতে হবে। শুধুমাত্র  লেখার ক্ষেত্রে তা কিন্তু না পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আপনাকে সঠিকভাবে বসে পড়াশোনা করতে হবে। বসার চেয়ার টি এমন ভাবে নির্বাচন করবেন যে যেন সেটা আরামদায়ক হয় এবং আরো বেশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে গিয়ে টেবিলের সাথে পূর্ণতা।  এমন নির্বাচন করবেন যে যেটা টেবিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। 

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টেবিল : 

যেকোনো কিছুর জন্যই  মনোযোগ এবং ফোকাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  লেখার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। অবশ্য  একজন  স্টুডেন্ট  হিসেবে আপনার উচিত সবসময় পড়ার টেবিল গোছানো রাখা।এতে করে আপনার মনোযোগ নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম থাকবে এবং প্রকাশ্য ঠিক করে রাখতে পারবেন।

বাহুর অবস্থা

লেখার ক্ষেত্রে বাহু কিংবা শরীরের অঙ্গ ভঙ্গি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জিনিসগুলো আপনার নিয়ন্ত্রনে রাখা উচিত। নিচে কিছু নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করা হল আশা করছে এগুলো আপনাদের কাজে দিবে দেখুন।

  • অঙ্গবিন্যাস ঠিক করা

  সোজা হয়ে বসবেন এবং বিপরীত  হাত অর্থাৎ আপনি যদি ডান হাত দিয়ে লিখেন তাহলে তার পরবর্তী যে বাম হাত আছে তা দিয়ে খাতাটি ধরে রাখার অভ্যাস করুন। এতে করে লেখায় ব্যবহৃত হাতটি স্থির এবং হাতের নিয়ন্ত্রণ থাকতে কিছুটা সহায়তা করবে ।

  • হাত ও কব্জির নমনীয় 

এই জিনিসটা শুনতে কিছুটা হাস্যকর মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটা কিন্তু অনেক কাজে দেয়।  লেখা শুরুর আগে হাত হালকা করে নিন এবং কব্জি দুটোকে হালকা মুছে নিন যাতে এগুলো লেখার জন্য নমনীয় হয়ে ওঠে।  বিশেষ করে আপনি যখন অনেকদিন পর লিখতে যাবেন তখন মাংসপেশিগুলো মধ্যে এক ধরনের জড়তা  কাজ করে। যার ফলে লিখাটা অতটা সুন্দর হয় না। তাই অনেকদিন পর লেখার ক্ষেত্রে আপনি হাতের কব্জিতে নমনীয় করে নিন। আর নিয়মিত লিখে ছাত্র আপনি যদি মনে করেন যে আপনার হাতের কব্জি নমনীয় নেই তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি হাতের কব্জি কে কিছুটা নমনীয় করে লিখে শুরু করুন এতে করে কিছুটা হল আপনি  স্বস্তি অনুভব করবেন।

  • বাহু এবং কব্জির অবস্থান

বেশিরভাগ মানুষ লেখার সময় শুধু আঙ্গুল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু হস্তাক্ষরবিদরা আংগুল দিয়ে কলম পেন্সিল আঁকড়ে ধরেন মাত্র এবং লেখার সময় নিজেদের বাহু এবং কব্জিকে সমান অবস্থানে রেখে লিখে থাকেন। এটি রপ্ত করার জন্য আপনি একটি কলম পরিকল্পনায় ( শূণ্যে অর্থ্যাৎ বাতাসে ) বড়  অক্ষরে লিখতে পারেন। নিয়মিত চর্চা করলে  এই বিষয়টি আপনার আয়ত্ত চলে আসবে।



লেখা সুন্দর করার উপায়

এখন কথা বলব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটা অতি সুন্দর করে লেখার উপায় কি। এতক্ষণ কথা বললাম সাইকোলজিকাল এবং অবস্থান সম্পর্কে। লেখার ক্ষেত্রে এগুলো সরাসরি সম্পর্কযুক্ত মনা হলো কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে এই বিষয়ে অতপ্রত ভাবে যুক্ত।  যখনই থাকবে তখন আপনার জন্য লেখা সুন্দর করে লেখাটা  অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এ নিয়ে কিছু টিপস্ এন্ড ট্রিকস্ জানা যাক।

  • খাতা ঠিক করা

সবচেয়ে যে জিনিসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে কি আপনার যে খাতাটায় লিখবেন সেটা ঠিক করা। আমি খাতা ঠিক করে বলতে এখানে বুঝাচ্ছি মার্জিন লাইন ঠিক করা কে। লেখা সুন্দর করার জন্য ফুটিয়ে তোলার জন্য এই জিনিসটা খুবই কাজে দেয়। লিখার ক্ষেত্রে খাতা দুই দিকে অবশ্যই মার্জিন করতে হবে। এবং এর বিপরীত দুই পাশে আপনি বুঝেন এরকম দুটি মার্চেন্ট দিতে হবে যেন ওই মাঠের বাইরে বাইরে না যায় তার জন্য। এতে করে আপনি যখন সম্পূর্ণ পৃষ্ঠা লিখেন তখন সম্পূর্ণ পৃষ্ঠা  সৌন্দর্য সম্পূর্ণ রূপে ফুটে উঠে। আর চেষ্টা করবেন এক পৃষ্ঠায় সর্বোচ্চ 14 থেকে 18 লাইন লিখতে।

  • মাঝারি সাইজের অক্ষর লেখা

সব সময় চেষ্টা করবেন মাঝারি সাইজের অক্ষর লিখতে। লেখা অত বেশি বড় হবে না এবং ওতো বেশি ছোট হবে না। মোটামুটি মাঝারি সাইজের লিখবেন যেন এক মিনিটের ভিতরে 14 থেকে 18 লিখা যায়। এতে করে অক্ষরের সাইজগুলো মোটামুটি মাঝারি দেখায় এবং লেখা দেখতে সুন্দর লাগে।

  • বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন লেখা :

অদৃষ্টের লেখা অর্থাৎ অক্ষর ঠিক করার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।  আপনি যদি অক্ষর ঠিক না থাকে যদি দেখতে খারাপ দেখায় সে ক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন যেমন নিচে একটা ছবি দিচ্ছি এগুলো মত চেষ্টা করবেন।

  • শুদ্ধ বানান

লিখে লিখার সময় শুদ্ধ বানানের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি যদি লিখে বেশি ভুল হয়, সে ক্ষেত্রে আমি আপনাকে বলব আপনি প্রচুর পরিমাণে গল্প-উপন্যাস এবং বইয়ের বিষয়বস্তু গুলো ভালো করে পড়ুন। যে  যে শব্দগুলো আপনার কাছে কঠিন মনে হবে সেগুলো শর্ট করে নোট করে রাখবেন অথবা সাথে সাথে লিখে ফেলবেন কয়েকবার লিখবেন এবং শব্দ গঠন সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করবেন। এবং প্রচুর পরিমাণে ভোকাবুলারি পড়ার চেষ্টা করবেন। আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

  • ওভাররাইটিং না করা

 লেখার সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি কাজ করে সেটা উচ্চ ওভাররাইটিং না করা। তাই আপনি অপারেটিং যত পরিহার করতে পারবেন লেখা সৌন্দর্যতত্ত্ব বেশি ফুটে উঠবে। আর লেখা কাটাকাটি করার চেষ্টা করবেন। আর যদি বিশেষ কারণেই শব্দ কাটতে হয়, তবে সেটা শুধুমাত্র এক দিয়ে কাটবেন।

  • সঠিক আলোর ব্যবহার

লিখার ক্ষেত্রে কিন্তু এই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেটুকু পরিমাণ আলোতে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি শেষ টুকু   আলো আপনার টেবিলে রাখবেন। আবার বল একেবারে কম আলোতে পড়বেন না এতে করে উল্টো চোখের ক্ষতি হয়।

  • সময় জ্ঞান রাখা 

ক্ষেত্রবিশেষ আমাদের অনেক সময় দ্রুত লেখার প্রয়োজন পড়ে। তাই লেখার সময় অবশ্যই আপনার সময় জ্ঞান রাখা উচিত। এতে করে আপনি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করতে পারবেন। তবে কখনো ভুলেও লেখা দ্রুত লেখার চেষ্টা করবেন না। কারণ এতে করে লেখার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং লেখার সৌন্দর্যটা বেশি ফুটে উঠবে না। তাই সম্মান রেখে বারবার নক করে নির্দিষ্ট সময়ের শেষ করার চেষ্টা করবেন।

  • ধীরগতিতে শুরু করুন

আগেই বলেছি লেখা কখনোই দ্রুত লিখতে যাবেন না। এতে করে হিতের বিপরীতে ঘটবে। তাই প্রথমে লেখা  ধীরগতিতে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে দ্রুত ট্রাই করুন। লেখা সুন্দর করার জন্য আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হবে অক্ষরের শ্রেষ্ঠ রূপ দান করা। সেটার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধীরে ধীরে লিখে অনুশীলন করে শিখতে হবে। প্রথমদিকে  অক্ষরের শ্রেষ্ঠ রূপ দেওয়ার জন্য বড় করে লিখুন। যখন আপনি ভালভাবে শিখতে পারবেন তখন ধীরে ধীরে লেখার সাইজটা  মাঝারি করে নিন। লেখা সুন্দর করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ধীরগতিতে ধীরে ধীরে শিখতে হবে। আপনি হুটহাট করে লিখে শেষ করতে পারবেন না। কারণ লিখ কিন্তু একটা শিল্প। এই শিল্পটা একদিন আয়ত্ত করা যায় না।  এতে সময় দিতে হবে আপনাকে।

  • সঠিক নিয়মে কলম ধরা

যদি অস্ত্র ধরতেন না যান তাহলে তো যুদ্ধ করতে পারবেন না। তাই আপনাকে আগের সঠিক নিয়মে কলম ধরার টা শিখতে হবে। কলম কিভাবে ধরছেন এর উপর আপনার লেখার গতি সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে। হালকাভাবে করাটাই হচ্ছে লেখার উপায়,  কারণ এতে করে খাতের ওপর তেমন জোরালো চাপ পড়ে না,  কালী সুন্দর হয়  এবং অপর পৃষ্ঠে দাগ তেমন পড়ে না আর চেষ্টা করবেন কলমের নিব এর কাছাকাছি ধরে লিখতে,  তবে শক্তভাবে ধরে নয়।  আবার অনেকেই আছে নিজের কাছে ধরে লিখতে অত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না,  তবে এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনি আপনার পছন্দ মতোই ধরে লিখতে পারবেন। আপনি যেভাবে কম্ফোর্টেবল ফিল করেন সেভাবে লিখবেন। আমরা জাস্ট আমাদের ওপেনিয়ন  টা শেয়ার করলাম।

  • লাইন সোজা লিখা 

লিখে সুন্দর করে  লেখার ক্ষেত্রে লাইন সোজা করে লেখাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাইন তথ্য সঠিকভাবে সোজা হবে দেখা সৌন্দর্য তত বেশি ফুটে উঠবে। আপনার যদি লাইন সোজা না হয় সে ক্ষেত্রে আপনি লাইন সোজা করার জন্য স্কেল ব্যবহার করতে পারেন। এবং এছাড়াও আমরা ছোটবেলায় যে বাংলা ইংরেজি খাতায় লিখলাম সেই খাতাগুলি লেখা প্র্যাকটিস করতে পারেন। নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারলে ইনশাআল্লাহ আপনার লিখা লাইন সোজা হয়ে যাবে। শুধুমাত্র লেখায় প্রকাশ করবেন এবং এক মাস চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ অবশ্যই সেটা সোজা হয়ে যাবে।

কাগজ ,কলমের ব্যবহার

কাগজ-কলমে কিন্তু লেখার মূল হাতিয়ার। হাতিয়ার সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকা উচিত। কারণ অস্ত্র সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকে তাহলে শত্রুর মোকাবেলা করবেন কিভাবে!  তাই আপনার কাগজ কলম সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত । নিচে কিছু বিষয় শেয়ার করছি :



  • ভালো কাগজ, কলম ব্যবহার করা

একটি প্রবাদ বাক্য আছে –  জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশি। বাস্তবতা কিন্তু তাই। নিম্নমানের কলম ব্যবহার করলে অনেক সময় দেখা যায় যে কালি শুকিয়ে যায় অথবা বলপয়েন্ট ঠিকমতো কাজ করে না ঠিকমত কালি আসে না। এতে করে লেখা সুন্দর হয় না বরং  লেখার মনোভাবটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই ভালো মানের কলম ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে গিয়ে কাগজ। নিম্নমানের ব্যবহারের সময় দেখা যায় যে এক পৃষ্ঠার লেখা অন্য পৃষ্ঠায় চাপ পড়ে যাচ্ছে বা একটি  পৃষ্ঠায় লিখলে অপর পৃষ্ঠা লেখা যায় না। এ  বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। এবং ভালো মানের খাতায় লেখার চেষ্টা করবেন ।

  • বিভিন্ন কালির ব্যবহার 

বিভিন্ন কালি ব্যবহার করলে লেখার সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় ঠিকই  কিন্তু কাজটা সময়সাপেক্ষ। কেননা  বিভিন্ন কালি ব্যবহার করলে লেখায় অনেক সময় লেগে যায় কলম পরিবর্তন করার কারণে। তাই আমি বলব আপনার পরীক্ষার হলে যদি আপনি যথেষ্ট পরিমাণ সময় পান কলম চেঞ্জ করার এবং লেখার সৌন্দর্য ফুটে উঠানোর। তাহলে আমি বলব আপনি বিভিন্ন  কালের কলম ব্যবহার করুন। এতে করে লেখার সৌন্দর্য আরো দ্বিগুন ফুটে উঠবে। আর যদি সময় না থাকে তাহলে সে জিনিসটা আপনার করার দরকার নেই। সময় থাকলে করবেন অন্যথায় করবেন না। এই যে শুধুমাত্র লেখার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে  এজন্য হয়তো আপনি কিছুটা মার্কস পেতে পারেন। কিন্তু এই সৌন্দর্য ফুটানোর জন্য যদি আপনি 5 থেকে 10 মার্কের প্রশ্ন না লিখতে পারেন তখন কিন্তু এই আফসোসটা সারা জীবন থেকে যাবে। তাই সময় থাকলে করবেন আর যদি না থাকে করবেন না। 

টিপস : লেখা সৌন্দর্যের জন্য আপনি নীল, বেগুনি, আসমানী  এ ধরনের কালার ব্যবহার করতে পারেন।  তবে লাল সবুজ এগুলো কখনোই ব্যবহার করবেন না।

এছাড়াও আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাধারণ টিপস

এখন কথা বলব গুরুত্বপূর্ণ কিছু টুকটাক জিনিস সম্পর্কে যেগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই হয়ত জানেন অনেকে হয়েছে নতুন জানিনা।

  • শব্দ লেখার সময় অতিরিক্ত ফাঁকা না রাখা। এতে করে লেখার সৌন্দর্য িএর চেয়ে বরং দেখতেই বেশি খারাপ লাগে।
  • একটি এবং অন্যটি লাইনের মধ্যে মোটামুটি আধা ইঞ্চি এক আংগুল থেকেও কিছুটা কম প্রাণ দিতে হবে।
  •  প্যারা করে লেখার চেষ্টা করতে হবে।  এবং একটির সাথে অন্যটির করার সময় এক লাইন সমপরিমাণ টাকা রাখতে হবে যেন পার্থক্যটা বুঝা যায়।
  • লেখা ভুল হলে তা একটান দিয়ে কেটে ফেলতে হবে। সেটাকে একেবারে কাল দিয়ে ভরাট করা যাবে না এতে করে লেখার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না বরং দেখতেই খারাপ লাগে।
  • লিখার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা ভুল প্রশ্ন লিখে ফেলি। সে ক্ষেত্রে ওপর-নিচ দাগ কেটে ফেলতে হবে। কখনো বেশি কাটা ছাড়া করা যাবে না সেগুলো প্রশ্ন ক্ষেত্রে এতে করে খাতা সৌন্দর্যটা হারায়।
  • অনেকে দেখা যায় যে লিখতে গিয়ে হাত  ঘামায়,  সে ক্ষেত্রে আপনাদেরকে বলবো যদি সুযোগ থাকে টিস্যু নিয়ে যেতে আর যদি সে সুযোগ না থাকে পরীক্ষার হলে সে ক্ষেত্রে একটি অতিরক্ত কাগজ নিয়ে আপনি  হাতে নিয়েছে দিয়ে রাখবেন এতে করে মূল খাতাটা নষ্ট হবে না।
  • প্রতিটি পৃষ্ঠায়  14 থেকে 18  লাইনের মধ্যে লেখার চেষ্টা করবেন।

পরীক্ষায় দ্রুত লেখা এবং ভালো লেখায় ১০ টি উপায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

 আগেও বলছি এখনও বলছি লেখা হচ্ছে মূলত একটি শিল্প। যেটাকে আপনার  অনুশীলনের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে হবে। আপনি যত বেশি সঠিকভাবে অনুসরণ করবেন আপনি তো ভাল আউটপুট পাবেন। নিয়মিত চর্চায় থাকুন যত বেশি চর্চা করবেন যত বেশি লিখবেন আপনার লেখা ততই সৌন্দর্য পূর্ণ হয়ে উঠবে। আজ এ পর্যন্তই। আশা করছি এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাজে দিবে। আপনাদের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের করতে পারেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে। ধন্যবাদ। 

Leave a Comment